স্থান: রামরাইল ইউনিয়ন

সময়: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রি; বিকেল ৫:০০ ঘটিকায়

নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় বাড়ছে নানা ধরনের অভিযোগ ও শঙ্কা। এরই মধ্যে এক বয়স্ক বিধবা নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর নিয়মিত পাওয়া বয়স্ক ভাতা ও রেশন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তায় তিনি এবার ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা এবং রেশন কার্ডের সুবিধা পেয়ে আসছেন। এগুলোই তাঁর একমাত্র নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস। সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন—নির্বাচনের ফলাফল যদি তাদের অনুকূলে না যায়, তবে তাঁর নাম সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আমার আর কিছু নেই। এই ভাতার টাকায় আর রেশনের চালেই কোনোভাবে দিন চলে। যদি এটা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমি বাঁচব কীভাবে?” তিনি জানান, ভোটাধিকার প্রয়োগের ইচ্ছা থাকলেও জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যূনতম খাদ্যসংস্থানের বিষয়টি এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, এমন অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নীতিমালার পরিপন্থী। সামাজিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভাতা বা রেশন সুবিধা রাজনৈতিক মতাদর্শ বা নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে ভোটারদের ওপর যে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।