সময়: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রি.; সকাল ১০:০০ ঘটিকায়।

স্থান: রামরাইল ইউনিয়ন

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির কথা, তখনই এক নারী ভোটারের পরিবারে নেমে এসেছে আতঙ্ক। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট প্রতীকের বাইরে ভোট দিলে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই নারী ভোটার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন।

ভুক্তভোগী নারী, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান—কয়েকদিন আগে তার স্বামীকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়, “বাড়ির মহিলারা যদি নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট না দেয়, তাহলে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না।” এমন হুমকির পর পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, “আমার ভোট আমার অধিকার। কিন্তু যদি আমার ভোটের কারণে আমার স্বামীর রোজগার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে? সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে?” তার কণ্ঠে ছিল শঙ্কা ও অসহায়ত্বের ছাপ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ছোট একটি ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। হুমকির পর থেকে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সচেতন মহলের মতে, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রভাবিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। তারা বলছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে হলে প্রত্যেক ভোটারকে নিশ্চিন্তে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি উঠেছে, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, ভোটাধিকার শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়—এটি গণতন্ত্রের ভিত্তি। আর সেই ভিত্তি দুর্বল হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোও প্রশ্নের মুখে পড়ে।