স্থান: সাদেকপুর ইউনিয়ন
সময়: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রি.; সন্ধা ০৬:০০ ঘটিকায়।
নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপের অভিযোগের মধ্যে এবার সামনে এসেছে এক কলেজপড়ুয়া নারী ভোটারকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর বাবাকে স্থানীয়ভাবে সতর্ক করা হয়েছে—মেয়ে যদি “ভুল জায়গায়” ভোট দেয়, তবে ভবিষ্যতে চারিত্রিক সনদ বা প্রয়োজনীয় স্থানীয় প্রত্যয়নপত্র পেতে সমস্যা হতে পারে। এমনকি উপবৃত্তির তালিকা থেকেও নাম বাদ পড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের দাবি, মৌখিকভাবে এমন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল ও অবস্থান “মনে না ধরলে” প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি শুনে মেয়ের বাবা গভীর উদ্বেগে পড়েন।
ওই শিক্ষার্থীর বাবা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আমার মেয়ের পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু নেই। যদি একটা সনদ না পাওয়ার কারণে তার ভর্তি বা উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। আমি ঝুঁকি নিতে চাই না।”
পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, মেয়ের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কায় বাবা আপাতত তাকে বাড়িতেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোটের দিনও তাকে বাইরে যেতে দেবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, চারিত্রিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র বা উপবৃত্তি—এসব শিক্ষার্থীর মৌলিক প্রশাসনিক অধিকার ও প্রক্রিয়ার অংশ। এগুলোকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ভোটারদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে এমন চাপ প্রয়োগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। নিরাপদ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।